যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের বাণিজ্য কাউন্সেলর

বাংলাদেশে মার্কিন কোম্পানিগুলো এখনো সমস্যার মধ্যে রয়েছে

বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এর অনেকগুলোর সমাধান হয়েছে।

বাংলাদেশে ব্যবসায়িক কার্যক্রম পরিচালনায় থাকা যুক্তরাষ্ট্রের প্রতিষ্ঠানগুলোকে অনেক চ্যালেঞ্জ মোকাবেলা করতে হয়। এর অনেকগুলোর সমাধান হয়েছে। কিন্তু এখনো বেশকিছু সমস্যা রয়েছে বলে দাবি করেছেন মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্য কাউন্সেলর পল ফ্রস্ট। আমেরিকান চেম্বার অব কমার্স ইন বাংলাদেশ (অ্যামচেম) আয়োজনে গতকাল এক মধ্যাহ্নভোজ সভায় এ কথা বলেন তিনি।

রাজধানীর একটি হোটেলে এ সভার মাধ্যমে যুক্তরাষ্ট্র দূতাবাসের সম্প্রতি নিয়োগপ্রাপ্ত বাণিজ্য কাউন্সেলরকে আনুষ্ঠানিকভাবে স্বাগত জানায় অ্যামচেম। অনুষ্ঠানে সংগঠনের প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ ও নির্বাহী কমিটি সদস্যরা ছাড়াও সদস্য কোম্পানির শীর্ষ নির্বাহী, উন্নয়ন সহযোগী, বিভিন্ন মন্ত্রণালয়, নিয়ন্ত্রক সংস্থা ও চেম্বার প্রতিনিধিরা উপস্থিত ছিলেন।

অনুষ্ঠানে বক্তব্যের শুরুতে পল ফ্রস্ট জানান, বিদ্যুৎ-জ্বালানি, বিমান চলাচল, কৃষিপণ্য, এমনকি কৃষি অবকাঠামো ও সংরক্ষণ ভবিষ্যতের জন্য অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ। তিনি বলেন, ‘আমরা অবকাঠামো উন্নয়ন, প্রকৌশল, প্রতিরক্ষা ও নিরাপত্তা সরঞ্জাম, তথ্য ও যোগাযোগ প্রযুক্তি এবং স্বাস্থ্যসেবার ওপর মনোযোগ দিচ্ছি। এগুলো যুক্তরাষ্ট্রের সবচেয়ে গুরুত্বপূর্ণ অগ্রাধিকারমূলক খাত, যা নিয়ে সম্পর্ক গড়ে তোলার চেষ্টা করছি। এছাড়া আমি সেই চ্যালেঞ্জগুলো নিয়ে আলোচনা করব যেগুলোর ওপর আমাদের একসঙ্গে কাজ করতে হবে।’

অ্যামচেম প্রকাশিত জার্নালের প্রশংসা করে মার্কিন দূতাবাসের বাণিজ্য কাউন্সেলর বলেন, ‘জার্নালে অ্যামচেম সভাপতি বাংলাদেশে বেসরকারি খাতের কিছু চ্যালেঞ্জ নিয়ে কথা বলেছেন। দুর্নীতি, আর্থিক সুশাসন, জটিল কর ব্যবস্থা, অবকাঠামো ও লজিস্টিকস, আমলাতন্ত্র—এগুলো এমন কিছু বিষয়, যার ওপর আমরা সত্যিই একসঙ্গে কাজ করতে পারি।’

পল ফ্রস্ট জানান, বাংলাদেশে আসার পর থেকে তিনি যুক্তরাষ্ট্রের কোম্পানিগুলোর চ্যালেঞ্জ নেভিগেট করতে সহায়তার জন্য উল্লেখযোগ্য সময় ব্যয় করেছেন। তিনি বলেন, ‘চ্যালেঞ্জের মধ্যে রয়েছে পরিশোধ সমস্যা, যেমন পাওনা অর্থ আদায় ও আয় বা মুনাফা ফেরত আনা। ধীরে ধীরে এসব চ্যালেঞ্জের সমাধান দেখতে পাচ্ছি। অন্তর্বর্তী সরকারের যারা সমস্যাগুলোর সমাধান করতে আমাদের সঙ্গে গঠনমূলকভাবে কাজ করেছেন, তাদের প্রতি আমরা সত্যিই কৃতজ্ঞ।

পল ফ্রস্ট আরো বলেন, ‘আমাদের এখনো বেশকিছু সমস্যা রয়েছে, যা নিয়ে কাজ করছি। আমি আত্মবিশ্বাসী যে অন্তর্বর্তী সরকার ও অন্য অংশীদারদের সঙ্গে কাজ করে ধীরে ধীরে প্রতিটি সমস্যার সমাধান করতে পারব এবং সেই দিকে তাকিয়ে রয়েছি।’

উদ্বোধনী বক্তব্যে অ্যামচেম প্রেসিডেন্ট সৈয়দ এরশাদ আহমেদ বলেন, ‘যুক্তরাষ্ট্রের বাণিজ্য ও বিনিয়োগের জন্য একটি গুরুত্বপূর্ণ এবং সম্ভাবনাময় গন্তব্য বাংলাদেশ, যেখানে পারস্পরিক ব্যবসায়িক সম্পর্ক প্রতিদিনই আরো সম্প্রসারিত হচ্ছে।’

তিনি উল্লেখ করেন, যুক্তরাষ্ট্র বাংলাদেশের সবচেয়ে বড় একক বৈদেশিক বিনিয়োগ উৎস, যা শুধু মূলধনই নয় বরং প্রযুক্তি, জ্ঞান বিনিময় ও বৈশ্বিক সেবা অনুশীলন নিয়ে আসে, যা দেশের অর্থনীতি ও জনগণকে উপকৃত করে।

সৈয়দ এরশাদ আহমেদ জোর দিয়ে বলেন, ‘আধুনিক লজিস্টিক ব্যবস্থা গড়ে তোলা, শুল্ক প্রক্রিয়া সহজীকরণ, নন-ট্যারিফ বাধা অপসারণ, মেধাস্বত্ব সুরক্ষা জোরদারকরণ এবং শ্রমমান উন্নয়নের মাধ্যমে আরো বেশি মার্কিন বিনিয়োগ আকৃষ্ট করা সম্ভব।’ অনুষ্ঠানে সমাপনী বক্তব্য দেন অ্যামচেম ট্রেজারার আল-মামুন এম রাসেল।

আরও